হ্লাছোহ্রী মারমা রোয়াংছড়ি
“মাহা সাংগ্রাইং পোয়ে”এর মৈত্রী পানি বর্ষণে মেতে উঠেছিল রোয়াংছড়ির বিভিন্ন পাড়ার মারমা সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর ।
শনিবার(১৬ এপ্রিল) বিকালে রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মৈত্রী পানি বর্ষণে মেতে উঠে তারা। এতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায় ছাড়াও পাহাড়ি- বাঙ্গালি স্বতস্ফূর্ত অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এক বর্ণিল আমেজ আনন্দের উৎসবে পরিণত হয়।
রোয়াংছড়ি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মৈত্রী পানি বর্ষণ উৎসব যোগ দিতে বিকাল থেকে দলে দলে মারমা তরুন-তরুণীরা নির্ধারিত মঞ্চে অবস্থান করে। তরুণ-তরুণীদের রং বেরংঙের আষাক পোষাক পরিধানে উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।
এ সময় চারিদিকে মারমা সঙ্গীতের মূর্ছনা, আর নাচ-গানে আনন্দে মেতে উঠে শিশুসহ সবাই।বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউট থেকে বান্দরবান মারমা শিল্পী চথুইপ্রু মারমা নেতৃত্বে গান পরিবেষণ করে গানের সাথে সাথে এক একজন তরুণ একজন তরুণীর দেহে জল ছিটায়। আর ঐ তরুণীও ঐ তরুণের দেহে পাল্টা জল ছিটিয়ে তার প্রতি উত্তর দেয়। এভাবে তরুণ- তরুণীরা পানি ছিটানোর মধ্যে দিয়ে মৈত্রী পানি বর্ষণে মেতে উঠে- মাহা সাংগ্রাইং পোয়ের মৈত্রী পানি বর্ষন অনুষ্ঠান। পানি বর্ষন চলাকালে দলে দলে গান গেয়ে তাল তাল মিলিয়ে নৃত্যে পরিবেশন করে নৃত্য শিল্পীরা।এসময় দর্শক উপস্থিতিতে মাঠটি সরগরমে সরব হয়ে ওঠেছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চহাইমং মারমা, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি আর্মি ক্যম্প মেজর মোহাম্মদ ফরহাত ইসলাম, উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফোরকান এলাহি অনুপম,সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফখরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মংহ্লাপ্রু, মানবাধিকার নেত্রী ডনাই প্রু মারমা নেলী, রোয়াংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেহ্লাঅং মারমা,
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আদিবাসী নেতারা।
এসময় হাজার হাজার পাহাড়ী-বাঙালী মৈত্রী পানি বর্ষণে উপভোগ করে। তাছাড়া তৈলাক্ত বাঁশ আরোহন এর আয়োজন করা হয় সাংগ্রাই উৎসব উপলক্ষে। সন্ধ্যায় একই স্থানে মারমা আদিবাসীদের বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী গান পরিবেশন করে উৎসব অঙ্গনকে মাতিয়ে রাখে। সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর চলে আদিবাসীদের ঘরে ঘরে ভিন্নধর্মী পিঠা-পুলি তৈরীর কাজ। পাড়ায় পাড়ায় পেন্ডেল সাজিয়ে তারা একে অন্যেও বাসায় গিয়ে পিঠা তৈরী করে।
পুরাতন বছরকে পেছনে ফেলে আসে নতুন বছর, আর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পাহাড়ের আদিবাসী পল্ল-ীর মারমা আদিবাসীরা আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠে মৈত্রী পানি বর্ষণসহ সাংগ্রাই উৎসবকে কেন্দ্র করে।
পাহাড়ের আদিবাসীরা ভিন্ন ভিন্ন নামে বর্ষবরণের এই উৎসব পালন করে থাকে। ত্রিপুরাদের বৈসুর (বৈ), মারমাদের সাংগ্রাইয়ের (সা) চাকমাদের বিঝুর (বি) থেকে বৈসাবি হলেও বান্দরবানের মারমারা বর্ষবরণের এই উৎসবকে সাংগ্রাই বলে থাকে। এই উৎসব দেখতে প্রতিবছরের মতো এবারও বান্দরবান ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত আগত দেশি পর্যটকদের ভিরের পরিলক্ষিত হয়।
রোয়াংছড়ি উৎসব উদযাপন পরিষদ (সাংগ্রাইং, ওয়াছো, ওয়াগ্যোয়াই) আহবায়ক মংখিংসাইন মারমা সভাপতিত্বে মাহাঃ সাংগ্রাইং পোয়ে আয়োজন করা হয়।
রোয়াংছড়ি মারমা যুব ফোরাম সভাপতি উমংনু মারমা বলেন প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিভিন্ন পাড়া হতে যুব সমাজের পানি খেলাকে ঐতিহ্যেবাহী উৎসব পানি খেলা ( জলকেলিক) মারমাদের মেতিয়ে উঠেছে, যুগ যুগ ধরে এ পানি বর্ষণকে উৎসব মূখর হয়ে পালিত করে আসছে।
এদিকে সাংগ্রাইং পোয়ে উপলক্ষে আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের লিরাগাঁও পাড়ার মাঠে শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে – মৈত্রী পানি বর্ষন অনুষ্ঠান।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি